(bn) গুরু সিয়াগ যোগ

Q1. গুরুদেব সিয়াগ সিদ্ধ যোগের প্রাথমিক তথ্য কী?

Ans:

  • গুরুর সিয়াগ যোগ সম্পূর্ণভাবে নিঃশুল্ক।
  • কোনো সরাসরি বা পরোক্ষ দান বা আর্থিক লেনদেন নেই।
  • কোনো ভেট, পূজা বা অর্ঘ্য নেই।
  • কোনো ধরনের রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন নেই।
  • কোনো কোর্স বা ট্রেনিং সেশন নেই।
  • কিছুই কেনার প্রয়োজন নেই।
  • এই যোগে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড বা আচার-অনুষ্ঠান নেই।
  • মন্ত্র দীক্ষার জন্য কোথাও যেতে হয় না। মন্ত্র দীক্ষা ইউটিউব, ভিডিও/অডিও সিডি, টিভি বা ই-মেইলের মাধ্যমেও সম্পূর্ণ কার্যকর।
  • ধ্যানের জন্য একান্ত স্থানের প্রয়োজন নেই। ধ্যান বাড়ি, অফিস, গাড়ি ইত্যাদি যেকোনো জায়গায় করা যায়। যেকোনো দিকে মুখ করে বসে করা যায়।
  • এই সাধনায় কোনো ধরনের শারীরিক ব্যায়াম করানো হয় না। শরীরের জন্য যে ক্রিয়াগুলি প্রয়োজন, সেগুলি ধ্যানের সময় কুণ্ডলিনী জাগরণের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে।
  • এই যোগ সমস্ত ধর্ম, জাতি, পন্থা, শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য।
  • এই যোগের কোনো ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। যেমন গণিত, বিজ্ঞান বা চিকিৎসাবিদ্যার কোনো ধর্ম নেই, তেমনই গুরুর সিয়াগ যোগও আধ্যাত্মিকতার একটি বিজ্ঞান, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য।
  • কুণ্ডলিনী শক্তি হলো মাতৃশক্তি। যেমন একজন মা কখনোই তার সন্তানের ক্ষতি চান না বা হতে দেন না। এই যোগ ৫ বছর বয়স থেকে যেকোনো বয়সের মানুষ করতে পারেন।
  • এই যোগে যোগ বা ধ্যান সম্পর্কে কোনো পূর্বজ্ঞান প্রয়োজন নেই। দরকার শুধু নিয়মিত সাধনার ইচ্ছাশক্তি। যেমন সূর্য, মেঘ, বাতাস, জল—অশিক্ষিত ও বিজ্ঞানী উভয়কেই সমান উপকার দেয়; কোনো ভেদাভেদ করে না। তেমনই গুরু সিয়াগ যোগেও পূর্ব জ্ঞানের প্রয়োজন নেই।
  • ধ্যান যে কোনো সময়, যা আপনার জন্য সুবিধাজনক, করা যায়।
  • ধ্যান সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত যেকোনো সময় এবং সন্ধ্যা থেকে ঘুমানোর আগে যেকোনো সময় করা যায়।
  • 24 ঘণ্টায় অন্তত দুইবার (সকাল–সন্ধ্যা) ধ্যান অবশ্যই করতে হবে। সুবিধামতো সময় প্রতিদিন পরিবর্তন করা যেতে পারে। শীতপ্রধান অঞ্চলে বা বেশি সমস্যা হলে বেশি সময় বা দিনে দুইবারের বেশি ধ্যানও করা যেতে পারে।
  • মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য ধ্যান করতে চাই এই প্রার্থনা করে ধ্যান শুরু করতে হবে। সময় যদি নিজে নিজেই 15মিনিটের বেশি হয়ে যায়, তাতে চিন্তার কিছু নেই। ১৫ মিনিটের আগে চোখ খুলবেন না। শুরুতে চাইলে অ্যালার্ম ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • প্রয়োজন হলে বা কোনো কারণে ধ্যানের মাঝখানে উঠতে পারেন। কাজ শেষ করে আবার ধ্যানের জন্য বসতে পারেন।
  • আপনি মেঝে, চেয়ার, সোফা বা বিছানায় বসে ধ্যান করতে পারেন। শুরুতে সম্ভব হলে কোনো হেলান না দেওয়াই ভালো। অনেক সময় ধ্যানের সময় মাথা বা শরীর পেছনের দিকে যেতে চায়—এই নড়াচড়ায় কোনো বাধা দেওয়া উচিত নয়। অনেকের অভিজ্ঞতা আছে যে ভর নিয়ে বসে ধ্যান করলে মাথায় ভারীভাব আসে। আপনার শরীর চারদিক থেকে নড়াচড়ার জন্য স্বাধীন থাকা উচিত। তবে যেকোনো আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসতে পারেন।
  • খাওয়া-দাওয়া, সিগারেট, মদ, তামাক ইত্যাদি (নিরামিষ–আমিষ)—এগুলোর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিছুই ছাড়ার প্রয়োজন নেই। মন্ত্র ও ধ্যানের শক্তি নিজে থেকেই আপনাকে সেই জিনিস থেকে দূরে সরিয়ে দেবে, যা আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর বা যা আপনি ছাড়তে চান। ধ্যান বা মন্ত্রে শক্তি থাকলে ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো আপনা-আপনিই ছুটে পালিয়ে যাবে। একে এই ভাবে বোঝা যায় যে সূর্য, বাতাস, জল, মেঘ, ফুল—এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো কখনো কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করে না। আপনি মাংস খান, মদ পান করেন বা ভালো-মন্দ যাই করেন না কেন—সূর্য, হাওয়া ,জল, মেঘ, ফুল ইত্যাদি আপনাকে কিছু থেকে বঞ্চিত করে না। তাহলে ঈশ্বরীয় শক্তি কেন আপনার উপর বন্ধন লাগাবে? গুরুর সিয়াগ যোগ পদ্ধতিতে কোনো কিছুই ছাড়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। (যেকোনো প্রশ্ন থাকলে 9468623528 নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করুন বা gssyworld@gmail.com এ ই-মেইল করুন)
  • মহিলারা মাসের সব দিনই এই ধ্যান করতে পারেন।
  • আপনার বর্তমান জীবনযাপন বা দৈনন্দিন রুটিনে কোনো পরিবর্তন করার দরকার নেই। ধ্যান শুরু করার আগে যা করতেন, তা চালিয়ে যান। অর্থাৎ 24 ঘণ্টার মধ্যে 23 ঘণ্টা 30 মিনিট আপনি যা খুশি করতে পারেন, শুধু সকাল ও সন্ধ্যায় 15–15 মিনিট করে দু’বার ধ্যান করতে হবে।
  • ধ্যান ও মন্ত্রজপ অন্য কারো জন্যও করা যেতে পারে, (যে নিজে করতে অক্ষম যেমন ছোট বা অবুঝ শিশু)। এমন কারো জন্যও ধ্যান করা যায়, যিনি আপনার হৃদয়ের খুব কাছের, যাঁকে নিয়ে আপনি গভীরভাবে চিন্তিত—যেমন বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী/স্ত্রী, আত্মীয়, বন্ধু ইত্যাদি, যাদের সঙ্গে আপনার দৃঢ় অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রয়েছে।
  • গুরুদেব কখনো বলেন না যে গুরু ছেড়ে দিলে পাপ হবে। গুরুর সিয়াগের বক্তব্য—“আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে গুরু বানিয়ে নিও, তবে যদি তাতে তোমার কাজ না হয়, তবে আবার শুরু করো।” অর্থাৎ আবার ধ্যান ও মন্ত্রজপ শুরু করুন। ফল আসতে শুরু করবে।
  • মন্ত্র পাওয়ার পর, যদি আর কোনো প্রশ্ন না থাকে, তবে ধ্যানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট জায়গা, কেন্দ্র, কারো বাড়ি, দলগত ধ্যান বা অনলাইন ধ্যানের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
  • গুরুসেবা বা গুরুভক্তির নামে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা সেবার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
  • ধ্যান সম্ভব হলে একাকী বা পরিবারের সঙ্গে করুন।
  • গুরুর সিয়াগ যোগে কখনো কোনো নেতিবাচক প্রভাব হয় না। তবে নিয়মিত না করলে এর উপকারিতা খুব ধীর গতিতে অনুভূত হবে।

Q2. GSY ধ্যান করবার কোনো নির্দিষ্ট উপযুক্ত সময় আছে কি?

Ans: না, আপনি আপনার সময়-সুযোগ অনুযায়ী যে-কোনো সময়েই ধ্যান করতে পারেন। শুধু খেয়াল রাখবেন, গুরুদেব শিষ্যদের সকালে ও সন্ধ্যায় অন্তত একবার করে ধ্যান করবার উপদেশ দিয়েছেন।

 

Q3. আমি কতক্ষণ ধ্যান করব? ধ্যানের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে কি?

Ans: নবাগতদের গুরু সিয়াগ ১৫ মিনিট ধ্যানের উপদেশ দিয়েছেন। শীতকালে বা ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় এই সময়সীমাকে বাড়িয়ে ৩০ মিনিট পর্যন্ত করা যেতে পারে।

কুণ্ডলিনী যেহেতু একটি প্রবল শক্তি, তাই অনুশীলনের সময় তা শরীরে তাপ তৈরি করে। শীতকালে (গ্রীষ্মকালের তুলনায়)এই তাপবৃদ্ধি শরীরে কোনো অস্বস্তির কারণ হয় না।

 

Q4. আমি একদিনে কতবার ধ্যান করতে পারি?

Ans: গুরুদেব শিষ্যদের সকাল ও সন্ধ্যায় অন্তত দুবার ধ্যান করবার উপদেশ দিয়েছেন। আপনি যদি শীতপ্রধান অঞ্চলের বাসিন্দা হন, তাহলে আপনি চাইলে প্রতিবার ৩০ মিঃ করে সারাদিনে চার – পাঁচবারও ধ্যান করতে পারেন।

Q5. নির্দিষ্ট সময় ধ্যানের জন্য ধ্যানে বসবার আগে ঘড়িতে এলার্ম দেবার প্রয়োজন আছে কি?

Ans: খুব প্রয়োজন ছাড়া আপনার এলার্ম দেবার কোনো প্রয়োজন নেই। কেবলমাত্র ধ্যানে বসার আগে গুরুদেবের কাছে আপনার মনোমত ধ্যানের সময়ের জন্য (১৫, ২০, ৩০ মিনিট) প্রার্থনা জানালেই চলবে। এমনটা করলে, কাঙ্ক্ষিত সময়ের শেষেই আপনার  ধ্যান ভেঙে যাবে। অবশ্য, কখনও  কখনও যদি ঐ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ধ্যান ভেঙে যায়, কিংবা, তার পরেও ধ্যান চলতে থাকে তবে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আধ্যাত্মিক পথে এগোনোর সাথে সাথেই আপনার ধ্যানও সময়ানুবর্তী হতে থাকবে।

Q6. হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনে কি মাঝপথে  ধ্যান ভঙ্গ করা যেতে পারে?

Ans: হ্যাঁ, করা যায়। সেক্ষেত্রে জরুরি কাজ সারবার পর আপনাকে আবার ধ্যানে প্রবেশ করতে হবে।

Q7. ভারি খাবার খাওয়ার পরপরই কি ধ্যান করতে পারি ? এতে আমার কোনো ক্ষতি হতে পারে কি?

Ans: ভারি খাবার খাওয়ার পরপরই ধ্যান না করাই ভালো। পেটভর্তি অবস্থায় ধ্যানের বিধান নেই। ভারি কিছু খাবার পর ৩/৪ ঘণ্টা সময়ের ব্যবধানে ধ্যান করা উচিত। পেটভর্তি অবস্থায় ধ্যান করতে বসে যদি আপনার প্রাণায়াম কিংবা শীর্ষাসন হয় তখন আপনার বমিবমি ভাব হতে পারে।

 

Q8. ধ্যানে বসবার জন্য বিশেষ কোনো বসবার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবার প্রয়োজন আছে কি?

Ans: না, ধ্যানের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ বসবার আয়োজনের নির্দেশ নেই। মেঝেতে  পা ভাঁজ করে বাবু হয়ে বসবার পরামর্শ থাকলেও তা আবস্যিক নয়। মাঝেতে বসবার ক্ষেত্রেও – কেউ সরাসরি মাটিতে বসতে পারেন, কেউ বা আসনের ওপর — কোনো নিষেধ নেই। সুবিধে অনুযায়ী কেউ চেয়ার কিংবা সোফার ওপরেও বসতে পারেন। নবাগতদের দেওয়াল বা অন্য কিছুতে পিঠ দিয়ে কিংবা একেবারে শুয়ে ধ্যান করা উপযুক্ত নয়। ধ্যানের সময় সাধকের বিভিন্ন যৌগিক ভঙ্গি বা ক্রিয়া অবাধে ঘটতে দেওয়ার জন্যই এটি দরকার। যেমন – সামনে – পিছনে ঝোঁকা এই ধ্যানের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়; কিন্তু, পিঠ কোনো কিছুতে ঠেকানো থাকলে সেই অভিজ্ঞতা বাধাপ্রাপ্ত হবে। ক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হলে সাধকের মস্তিষ্ক ভারী হয়ে উঠতে পারে। সে কারণেই সামূহিক ধ্যানের সময় সাধকদের অবাধ শারীরিকক্রিয়ার স্বার্থেই নিজেদের মধ্যে দূরত্ব রাখতে বলা হয়। নিজের পছন্দ অনুসারে সাধক তাঁর ধ্যানের জায়গাটিকেও পরিবর্তন করতে পারেন।

বি. দ্র. শারীরিক প্রতিবন্ধকতা অথবা ব্যথা-বেদনার কারণে কেউ যদি সোজা হয়ে  কোনরকম ভর না দিয়ে বসতে অক্ষম হন, সেক্ষেত্রে তিনি নিজের সুবিধামতন  ভঙ্গিতেই ধ্যানে বসতে পারেন (যেমন – প্রয়োজনে শুয়ে থেকেই।

Q9. জি.এস.ওয়াই ধ্যানের ক্ষেত্রে আমাকে পূর্ব বা পশ্চিম — এমন কোনো নির্দিষ্ট দিকে মুখ করে বসতে হবে কি?

Ans: না, ধ্যানের সময় আপনাকে কোনো বিশেষ দিকেই মুখ ফিরিয়ে বসতে হবে না। আপনার খুশিমতন যে-কোনো দিকেই মুখ করে আপনি বসতে পারেন। সবদিকেই, সর্বদা গুরুকৃপা ঝরে পড়ছে।

Q10. অনুশীলনকারীকে কি কোনো বিচ্ছিন্ন , নির্জন স্থান ধ্যানের জন্য বেছে নিতে হবে?

Ans: শান্ত জায়গা হলে ভালো হয়, তবে এটি আবশ্যিক নয়। ধীরে ধীরে অভ্যাস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি যে-কোনো জায়গাতেই ধ্যান করতে পারবেন। বিশেষত, কোলাহলমুখর জায়গায় নবাগত সাধকের পক্ষে মনোসংযোগ করা এবং একাগ্র হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ উচ্চস্বরে কথা বললে, ট্র্যাফিকের গর্জনে, গাড়ির হর্ন বাজানো শব্দে, টি.ভি. বা রেডিওর উচ্চকিত সঙ্গীতে, ইমারত গড়ার শব্দে, ছাদে বৃষ্টি পড়ার আওয়াজে, ঘড়ির টিকটিক শব্দে কিংবা প্রবল বাতাসের ধ্বনিতেও নতুন অনুশীলনকারীর ধ্যান বিঘ্নিত হতে পারে। যদিও, ধৈর্য ধরে ধ্যান করে যেতে হবে। নিয়মিত অভ্যাসের ফলে আপনি দেখতে পাবেন যে বাইরের শব্দ আর আপনাকে বিরক্ত করছে না — আপনি যে-কোনো স্থানেই ধ্যানাভ্যাস করতে পারছেন।

Q11. আমি কি অন্য সাধকদের সঙ্গে সামূহিক ধ্যানে যোগ দিতে পারি ?

Ans: হ্যাঁ, পারেন। শুধু আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে, সামূহিক ধ্যানে বসবার সময় আপনার চারপাশে কিছুটা ফাঁকা জায়গা যেন থাকে, যাতে করে আপনার স্বয়ংক্রিয় যৌগিক ক্রিয়ায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। সামূহিক ধ্যান ভালো — এর ফলে সাধকেরা একে অপরের সঙ্গে নিজের নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবার সুযোগ পান এবং তার ফলে আধ্যাত্মিক সাধনায় তাঁদের উৎসাহ ও বিশ্বাস প্রগাঢ় হয়।

 

Q12. জি.এস.ওয়াই. অনুশীলন শুরু করবার  জন্য উপযুক্ত বয়স কত?

Ans: না, সেরকম কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম বয়ঃসীমা নেই। একজন শিশু যখনই ধ্যানের পদ্ধতি বুঝতে পারবে এবং মন্ত্রের উচ্চারণ বুঝতে পারে, তখনই সে এই অনুশীলন শুরু করতে পারে। শিশু, যুবক, মধ্যবয়সী এবং বৃদ্ধেরা সকলেই এই অনুশীলন করতে পারে।

 

Q13. ধ্যানে বসবার জন্য পোশাক পরবার কোনো বিধি – নিয়ম আছে কি?

Ans: না, আপনার পক্ষে আরামদায়ক বা স্বস্তিজনক যে-কোনো পরিধানেই আপনি ধ্যানে বসতে পারেন।

 

Q14. আমার যদি মদ্যপান , ধূমপান কিংবা মাদকদ্রব্যে অথবা কোনো বিশেষ ধরণের খাদ্যগ্রহণের (যেমন– মাংস) অভ্যাস বা আসক্তি থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে গুরু সিয়াগ যোগের অনুশীলনে যুক্ত হবার আগে আমাকে কি সেসব ত্যাগ করতে হবে?

Ans: না, অনুশীলন করবার জন্য  আপনার কোনো অভ্যাসই বর্জন করবার প্রয়োজন নেই। গুরু সিয়াগ যোগের অনুশীলনের ফলে জাগ্রত ঐশ্বরিক কুণ্ডলিনী শক্তি আপনার শরীরের সবচাইতে  গোপনীয় সংবাদও জানেন — অর্থাৎ, আপনার শরীরের সত্যিসত্যি কী প্রয়োজন এবং এর ভালো থাকার পক্ষে কোনগুলি ক্ষতিকর। ফলে, আপনি যখন নিয়মিত ধ্যান করেন, সক্রিয় কুণ্ডলিনী আপনার বৃত্তিতেই ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করেন যার ফলে আপনার পক্ষে ক্ষতিকর অভ্যাসগুলি আপনার প্রচেষ্টা ছাড়াই আপনাআপনি আপনাকে ত্যাগ করে চলে যায়।

Q15. গুরু সিয়াগ যোগে মন্ত্রদীক্ষা প্রাপ্তির জন্য কোনো টাকাকড়ি লাগে কি? এই মন্ত্রদীক্ষা লাভ করতে হলে আগাম নাম নিবন্ধীকরণের কোনো প্রয়োজন আছে কি?

Ans: জি.এস.ওয়াই. মন্ত্রদীক্ষার সঙ্গে অর্থের (টাকা-পয়সার) কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে লাভ করা যায়। এই দীক্ষালাভের জন্য ইচ্ছুক প্রার্থীর নাম নিবন্ধীকরণেরও কোনো প্রয়োজন নেই।

Q16. G. S. Y. কি কেবলমাত্র কোনো বিশেষ ধর্ম বা বিশ্বাস অনুসারী মানুষের জন্যই অনুসরণযোগ্য ?

Ans: না। জি.এস.ওয়াই. সর্ব জাতি, বর্ণ, বিশ্বাস, গোষ্ঠী, সম্প্রদায়, বয়স এবং লিঙ্গের মানুষের জন্যই সমানভাবে সুপ্রযুক্ত ।সমগ্র মানবজাতির জন্যই জি. এস. ওয়াই. উপলব্ধ ।

Q17. গুরু সিয়াগ যোগ অনুশীলনের কোনো কোনো বিরূপ বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে কি?

Ans: একেবারেই না। গুরু সিয়াগ যোগে গুরু সাধকের কুণ্ডলিনী জাগ্রত করে দেন — যা কিনা এই বিশ্বজগতের জননী হিসেবে পরিচিত। মায়ের দ্বারা যেমন সন্তানের ক্ষতিসাধন অবাস্তব কল্পনা, তেমনি কুণ্ডলিনীও গুরু সিয়াগ যোগের সাধকের কোনো রকম ক্ষতিসাধন করেন না।

Q18. গুরু সিয়াগ যোগ অনুশীলনের সময় আমি কুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত হবার বিষয়ে আমি কেমন করে নিশ্চিত হবো?

Ans: কুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত হলেই আপনি আপনার দেহে তাঁর দিব্য উপস্থিতি অনুভব করতে পারবেন । আপনি আপনার ইচ্ছা ব্যতিরেকেই ধ্যানের সময় নানান যৌগিক ক্রিয়া এবং আসন বা মুদ্রা লক্ষ্য করবেন। আপনি কোনো দিব্যজ্যোতি কিংবা অবারিতভাবে আপনার অতীত এবং ভবিষ্যতের ঘটনাধারাও প্রত্যক্ষ করতে পারেন। আপনার দৃষ্টি, আচরণে এবং ব্যক্তিত্বে একধরণের ইতিবাচক পরিবর্তনও লক্ষ্য করে থাকতে পারেন। এইগুলিই পরিষকারভাবে সঙ্কেত দেয় যে আপনার কুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত হয়েছে এবং তা আপনার ভিতরে রূপান্তর সাধন করছে। জাগ্রত কুণ্ডলিনীর এইগুলিই অনিবার্য লক্ষণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য আরও কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এই লক্ষণগুলির প্রতি খুব বেশি উৎসুক না হয়ে সাধকের পক্ষে অনুশীলনে শ্রদ্ধা ও সমর্পণই একান্ত জরুরি।

Q19. গুরু সিয়াগ যোগের অনুশীলন করবার জন্য আমাকে কোন ধরণের জীবনশৈলী এবং নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হবে?

Ans: জি.এস.ওয়াই. অনুশীলনের জন্য কোনো বিশেষ ধরণের জীবনশৈলীর অনুসরণ কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মের পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। আপনি আগের মতোই জীবনযাপন করতে পারেন।

Q20. এই ধরণের যোগপদ্ধতিতে কী ধরণের যৌগিক ব্যায়াম করা জরুরি?

Ans:  আপনাকে কোনো যৌগিক ক্রিয়ার অনুষ্ঠানই করতে হবে না। আপনার শরীরের পক্ষে প্রয়োজনীয় যৌগিক ক্রিয়া এবং আসন সাধকের বিন্দুমাত্র প্রয়াস ছাড়াই কুলকুণ্ডলিনীর দ্বারা স্বতঃ স্ফূর্তভাবেই ঘটে যাবে।

Q21. গুরুদেবের দীক্ষা-অনুষ্ঠানে যোগ দেবার জন্য কোনো বিশেষ ধরণের পরিধান পরতে হয় কি?

Ans: এখানে কোনোরকম পোশাক-আশাকের বিধি নেই। আপনার যেমন খুশি পোশাক পরতে পারেন।

Q22. গুরুদেবের দীক্ষাগ্রহণের আগে সাধারণভাবে যোগ সম্বন্ধে বা গুরু সিয়াগ যোগ সম্পর্কে জেনে নেবার প্রয়োজন আছে কি?

Ans: না, সাধারণ ভাবে যোগ বিষয়ে কিংবা জি.এস.ওয়াই. সম্পর্কেও আপনার আগাম কিছু জানবার প্রয়োজনই নেই। সূর্যকিরণ, বাতাস, নদী যেমন সকলের জন্যই সমান– তা সে নিরক্ষর ব্যক্তিই হোক বা বিজ্ঞানী– তেমনি যোগবিষয়ে আগাম কোনো জ্ঞান ছাড়াই গুরু সিয়াগ যোগও সকলের ক্ষেত্রেই একইরকম উপকারী ।

Q23. আমি কি অন্যদের কাছে গুরু সিয়াগ যোগ বিষয়ে বলতে পারি?এই যোগ কি কপিরাইটের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত?

Ans: আপনি চাইলে অন্য যে কাউকে গুরু সিয়াগ যোগ করবার পরামর্শ দিতে পারেন। ভারতবর্ষে কিংবা বাইরে বিদেশেও আপনি আপনার নিজব্যয়ে সাধ্যমতন গুরুদেবের যোগ-পদ্ধতির প্রচার-প্রসার করতেই পারেন। সেজন্য আপনার আগাম কোনো অনুমতি-প্রার্থনার প্রয়োজনই নেই। গুরুদেব এই দিব্যজ্ঞানকে বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন। আর অন্যরাও তা করতে পারেন।

error: Content is protected !!