গুরু সিয়াগ যোগে (G.S.Y.) ধ্যান এবং গুরু সিয়াগ প্রদত্ত দিব্যমন্ত্রের অবিরাম জপ অনুশীলনকারীর জাগতিক জীবনেনিম্নলিখিত পরিবর্তন নিয়ে আসে —
- এইচ.আই.ভি./ এইডস, ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট (Asthma), হাইপারটেনশান বা উচ্চ রক্তচাপ, আর্থারাইটিস (বাত),ডায়বেটিস বা বহুমূত্র, স্পণ্ডিলাইটিস, হিমোফিলিয়া, স্থূলতা বা ওবেসিটি, হৃদযন্ত্রের অসুখ, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, চর্মরোগ ইত্যাদি সহ সর্বপ্রকার রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলে।
- সবধরণের উত্তেজক ড্রাগ ও মাদকজাতীয় দ্রব্যের প্রতি আসক্তি, মদের নেশা, ধূমপান, তামাক সেবন ইত্যাদি থেকেমুক্ত হওয়া যায়। অনুশীলনকারীর ক্ষতিকারক খাদ্যাভ্যাস থেকেও গুরু সিয়াগ যোগ (G.S.Y.) মুক্তি প্রদান করে।
- অবসাদ, অনিদ্রা, মানসিক চাপ এবং অন্যান্য মানসিক বৈকল্য থেকে মুক্তি মেলে।
- পারিবারিক বা কর্মজগতের সমস্যা, শিক্ষা, বিবাহ কিংবা অর্থনৈতিক সঙ্কট সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন ঘটে।
- বশীকরণ, কালা জাদু এবং তন্ত্রমন্ত্রের কু-প্রভাব থেকেও নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। গুরু সিয়াগ যোগ (G.S.Y.) যেহেতুস্মৃতিশক্তিকে মজবুত করে এবং কোনো বিষয়ে মনোসংযোগ-ক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটায়, সেহেতু ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষেওএটি ভীষণ উপকারী।
রোগব্যাধি থেকে মুক্তি :- (Curing from Diseases)
প্রশ্ন: গুরুদেবের থেকে মন্ত্রদীক্ষা নেওয়ার পরেই কি আমার ব্যাধি সেরে যাবে?
শুধুমাত্র গুরু সিয়াগের থেকে মন্ত্রদীক্ষা গ্রহণই যথেষ্ট নয়। রোগমুক্তির জন্য অনুশীলনকারী অবশ্যই সারা দিনব্যাপী ওইদিব্যমন্ত্রের মানস-জপ এবং দিনে দুবার ১৫ মিনিট করে ধ্যান করবেন। নিয়মিত, ধারাবাহিক অনুশীলনই দ্রুত আরোগ্যেরমূল চাবিকাঠি । যেহেতু গুরু সিয়াগ যোগ (G.S.Y.) সামগ্রিক নিরাময় ঘটায়, তাই রাতারাতি সুফল মেলে না। একটি নির্দিষ্টসময় ধরে ধাপে ধাপে দেহ সুস্থ হতে থাকে। সুতরাং, সাধককে অবশ্যই ধৈর্য রাখতে হবে এবং হাতে হাতে ফল মিলল নাবলেই হতাশ হওয়া চলবে না। কয়েকটি ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে অনুশীলনকারী কয়েকদিনের অনুশীলনেই সেরে উঠেছেন। দেখাগেছে যে, এই রোগগ্রস্ত শিষ্যেরা যাঁরা অন্য সব উপাসনা এবং ধর্মীয় আচার ছেড়ে একমাত্র গুরু সিয়াগ যোগেরই (G.S.Y.) অনুশীলন করেছেন, ওষুধ নেওয়া বন্ধ করেছেন এবং একান্তমনে গুরু সিয়াগের কাছেই নিরাময়ের জন্য প্রার্থনাজানিয়েছেন।
প্রশ্ন:- যেহেতু এখন আমি গুরু সিয়াগ যোগের (G.S.Y.) অনুশীলন করি, সেক্ষেত্রে আমি কি ওষুধ খাওয়ার ব্যাপারেডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলব?
দুটি ক্ষেত্রে রোগীকে অবশ্যই ওষুধ খেয়ে যেতে হবে:-
(a) যেখানে রোগী এতটাই দুর্বল যে তাঁর সচেতনভাবে মন্ত্রজপ ও ধ্যান করবার সামর্থ্য নেই। ধারাবাহিক অনুশীলনের জন্যদেহে প্রয়োজনীয় শক্তি না আসা পর্যন্ত ওষুধ অবশ্যই খেয়ে যেতে হবে।
(b) গুরু সিয়াগ যোগের ব্যাপারে রোগীর সম্পূর্ণ বিশ্বাস না থাকলে।
বিশ্বাসের অভাব ঘটলে রোগগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বদাই হয় এই অনুশীলন ছেড়ে দেবার ছুতো খুঁজবে নতুবা এমনটা ভাববে যে গুরুসিয়াগ যোগ (G.S.Y.) অনুশীলনের ফলেই তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটেছে। এইসব ক্ষেত্রে গুরু সিয়াগ যোগে (G.S.Y.) দৃঢ়বিশ্বাস না আসা পর্যন্ত এবং নির্ভয়ে ওষুধ বন্ধ করতে না পারা পর্যন্ত ওষুধ খাওয়াই বিধেয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- গুরু সিয়াগ কখনওই তাঁর শিষ্যদের চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত করেন না। তিনিওষুধের ওপরে তাদের যতটা বিশ্বাস যোগের ওপরেও ততটাই বিশ্বাস স্থাপন করতে বলেন। তাঁর মতে গুরু সিয়াগ যোগ(G.S.Y.) অন্তরের ও বাইরের সেতুবন্ধনে সহায়তা করে — “আমি আপনাদের এমন এক প্রক্রিয়া শেখাবো যাতে ভিতরেরচিকিৎসক জেগে ওঠে । আমি রোগী এবং ডাক্তার দুজনকেই বলি বাইরের চিকিৎসকের সাহায্য নিয়ে চলতে — আমিকখনওই বিজ্ঞানকে অস্বীকার করি না। বিজ্ঞান সত্য, কিন্তু, তা এখনও অসম্পূর্ণ । আলেকজাণ্ডারের গুরু এরিস্টটল তাঁরসময়ের এক মহান বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি বলেছিলেন বিজ্ঞান হলো অসম্পূর্ণ দর্শন ; অপরদিকে দর্শন কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান। যোগদর্শনও একটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞান। বিজ্ঞান দর্শনের সহায়ক মাত্র। আমি কখনও বিজ্ঞানের বিরোধিতা করিনি।কিন্তু, আমি এ কথা বলি যে, আপনার অন্তরে একজন চিকিৎসক আছেন। ভিতরের সেই চিকিৎসক বাইরের ডাক্তারকে পথদেখায় এবং শেষোক্ত জনের জ্ঞানের পরিসীমা সেটুকুই । এই ভিতরের ডাক্তারের অনেক কিছু দেবার আছে। আমি শুধুমাত্রএই ভিতরের ডাক্তারের সঙ্গে আপনার পরিচয় করিয়ে দিই। এরপর তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব জমিয়ে তোলা আপনার কাজ। তারমানে হলো, যে মন্ত্র আমি দেব, তা আপনাকে ক্রমাগত জপ করে যেতে হবে।”
গুরু সিয়াগ যোগ (G.S.Y.) কীভাবে রোগ নিরাময় ঘটায়:
মানবের যাবতীয় রোগব্যাধিকে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান দুটি বড় ভাগে বিন্যস্ত করেছেন– শারীরিক ও মানসিক । বাহ্যিকএবং অভ্যন্তরীণ ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে কিংবা থেরাপির মধ্য দিয়ে সে সবের চিকিৎসা করা হয়। ভারতবর্ষের প্রাচীনমুনি-ঋষিরা ধ্যানের মাধ্যমে মানব জীবনের অজ্ঞাত রহস্যগুলির উদ্ঘাটন করতে চেয়েছেন। তারা অনুধাবন করেছিলেন যেমনুষ্য দেহের অধিকাংশ রোগব্যাধিই প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তির পূর্বজীবনের কৃতকর্মের ফল। কেবলমাত্র রোগজীবাণুদের সংস্পর্শেআসাই এর এক মাত্র কারণ নয়, যেমনটি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান মনে করে। এ জীবনে হোক বা পরবর্তী জীবনে — ব্যক্তির প্রতিটি কাজই একেকটি প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। প্রতিটি মানুষই যেহেতু জন্ম-মৃত্যুর অনিঃশেষ চক্রের মাঝে পড়েগেছে, সেহেতু জীবনে রোগভোগ এবং উত্থানপতন ক্রমান্বয়ে চলতেই থাকে। অন্যভাবে বললে — আধ্যাত্মিক কর্মফলবাদ — অর্থাৎ, পূর্বজীবনের কৃতকর্মের ফলশ্রুতিতে বর্তমান জীবনে রোগব্যাধি বা দুঃখভোগই — একজনম থেকে আরেক জনমেঅনিঃশেষ চক্রের মতোই মানুষের জীবনকে চালনা করে।
যৌগিক শাস্ত্র অনুসারে পূর্ব পূর্ব জন্মের সংস্কার (অন্তঃশায়ী প্রবণতা ও অভ্যাসের বীজ) এবং বর্তমান জীবনের কর্মআমাদের জীবনের গতি স্থির করে।মহর্ষি পতঞ্জলি তাঁর সুপ্রাচীন গ্রন্থ ‘যোগসূত্র’-এ রোগব্যাধিকে তিনিটি ধারায় বিন্যস্তকরেছেন — শারীরিক (আধিদৈহিক), মানসিক (আধিভৌতিক) এবং আধ্যাত্মিক । সদ্গুরুর কাছে আশ্রয় নিয়ে এবংনিয়মিত সিদ্ধযোগের সাধনার অনুশীলনের মাধ্যমে যে-কেউ এই ত্রিবিধতাপ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে পারেন।গুরু সিয়াগের কথায় — “সারা পৃথিবী জুড়েই যোগের নামে এখন শারীরিক কসরৎ প্রদর্শিত হচ্ছে। আমি যখনআমেরিকায় গিয়েছিলাম তখন সেখানেও দেখেছি, যোগ বলতে শারীরিক ব্যায়ামকেই বোঝানো হয়। কিন্তু, বৈদিক দর্শনেরব্যাখ্যা অনুযায়ী যোগের লক্ষ্য হলো মোক্ষলাভ অর্থাৎ, জন্ম-মৃত্যুর পুনরাবর্তন থেকে মুক্তি। প্রকৃতপক্ষে, বৈদিক দর্শনএকেবারেই রোগব্যাধির কথা বলে না। যেমন পতঞ্জলির যোগদর্শনের ১৯৫ টি সূত্রের কোনোটিতেই রোগব্যাধির প্রসঙ্গ নেই।এই দর্শন বরং, বিগত জন্মগুলির সংস্কারকে ধ্বংস করে ফেলার উপায়ের কথা বলে।”
গুরু সিয়াগের মতন সমর্থ আধ্যাত্মিক গুরুর অভিভাবকত্বে নিয়মিত যোগের অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন তাঁর যাবতীয়দুঃখের আধ্যাত্মিক সমাধান পেতে পারেন। গুরু সিয়াগ যোগের (G.S.Y.) অনুশীলন একজন শিষ্যকে অতীতের কর্মজালকাটাতে, রোগব্যাধি থেকে মুক্ত হতে এবং আত্ম-সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবন করতেসাহায্য করে। (যেকোনো প্রশ্ন থাকলে 9468623528 নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করুন বা gssyworld@gmail.com এ ই-মেইল করুন)
মানসিক চাপমুক্তি (Freedom from Stress)
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ওষুধের প্রতি আসক্তি এবং অতি-নির্ভরতার ( আচ্ছন্নতা বা ঘুমের ওষুধ )মাধ্যমে মানসিকচাপের চিকিৎসা করে এবং ক্বচিৎ রোগীর নিরাময়ে সক্ষম হয়।গুরু সিয়াগ যোগও (G.S.Y.) নেশা বা মাদকতাকে চিকিৎসারউপায় হিসেবে প্রয়োগ করে, কিন্তু, সে এক আনন্দময় নেশা (দিব্যানন্দ বা পরমসুখ) — গুরু সিয়াগ প্রদত্ত দিব্যমন্ত্রেরনিয়মিত জপে যা প্রাপ্ত হওয়া যায়। মুনি-ঋষিরা একে “মাদকদ্রব্যহীন মাদকতা” বলে উল্লেখ করেছেন। দিব্যানন্দ সাধককেকিছুদিনের মধ্যেই যাবতীয় মানসিক চাপ এবং চাপজনিত রোগব্যাধি যেমন– উচ্চ রক্তচাপ, অবসাদ, অনিদ্রা, আতঙ্কগ্রস্ততা ইত্যাদি থেকে মুক্তি দেয়। গুরু সিয়াগ এ বিষয়টিকে নিম্নোক্তভাবে ব্যাখ্যা করেছেন :- “সমগ্র পৃথিবীতেই ৮০শতাংশ রোগের কারণ মানসিক চাপ। কলিযুগ মানবজাতির ওপর তামসিকতার এক চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। গরীব কিংবাধনী নির্বিশেষে সকলেই ক্রমাগত বিপুল চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান এই মানসিক চাপের চিকিৎসায়অক্ষম। তারা কেবল আচ্ছন্নতার ওষুধ প্রয়োগে স্নায়ুগুলিকে শান্ত করে রাখে। যতক্ষণ ওষুধের ক্রিয়া চালু থাকে ততক্ষণইস্নায়ুগুলি ঘুমিয়ে থাকে ও চাপ ক্ষীণ বলে অনুভূত হয়। একবার ঘুমের ওষুধের প্রভাব কেটে গেলেই মানসিক চাপ এবংতজ্জনিত রোগব্যাধি আবার ফিরে আসে। অবশ্য আমরাও (সিদ্ধ যোগদর্শন) বিশ্বাস করি যে নেশার মাধ্যমেই চাপেরচিকিৎসা হওয়া উচিত। কিন্তু, সেই নেশা জড় বা জাগতিক নয়, বরং, আত্মিক হওয়া উচিত। সিদ্ধযোগে ঈশ্বরের নাম জপের( মন্ত্রজপ) মাধ্যমেই এই মত্ততা জেগে ওঠে।”
“ঈশ্বরের নামজপ এক দিব্যানন্দের জন্ম দেয়। ভগবানের নামোচ্চারণের মাধ্যমে সত্যিই এক পরমানন্দের অনুভূতি লাভহয়।ভারতের মরমিয়াবাদী ও সাধু-সন্তেরা– যেমন গুরু নানক– এই আনন্দকে ‘নাম খুমারি’ বলে চিহ্নিত করেছেন। গুরুনানক বলেছেন যে, মাদকদ্রব্যের নেশা রাত পোহালেই কেটে যায়, কিন্তু, নামজপের নেশা কখনওই কাটে না। অপর একভারতীয় সাধক কবীরও এই একই কথা বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে, নামজপের ফলে প্রাপ্ত আনন্দ দিনদিন বাড়তেই থাকে।আমি যে মন্ত্র দিই তাতে রাধা এবং কৃষ্ণের দিব্যশক্তি মিলিতভাবে থাকে।”
“কৃষ্ণ ছিলেন নবম পূর্ণ অবতার। আরও এক অবতারের আবির্ভাব ঘটবে — কল্কি। আজকাল অনেকেই নিজেদের কল্কিঅবতার বলে দাবি করেন, কিন্তু, সমগ্র বিশ্বের দরবারে যিনি সর্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করবেন তিনিই প্রকৃতপক্ষে কল্কিঅবতার অভিধার উপযুক্ত। সুতরাং, ঈশ্বরের নামজপ এক আনন্দময় মত্ততা নিয়ে আসে। ‘ভগবদ্গীতা’য় ভগবান শ্রীকৃষ্ণএকেই ‘আনন্দ’ বলেছেন। গীতায় এ বিষয়ে পাঁচটি শ্লোক আছে : পঞ্চম অধ্যায়ের একবিংশতি ( ২১ সংখ্যক) শ্লোক এবং ষষ্ঠঅধ্যায়ের ১৫, ২১, ২৭, এবং ২৮ সংখ্যক শ্লোক। তিনি এই ‘আনন্দ’কে নানান অভিধায় চিহ্নিত করেছেন – দিব্য বা ঐশ্বরিকআনন্দ যা ইন্দ্রিয়াতীত কিংবা, ভগবানের ধ্যানে লব্ধ আনন্দ। যতক্ষণ না মানব এই ‘আনন্দ’-এর অনুভূতি লাভ করেততক্ষণ পর্যন্ত সে ‘সুখ’ ও ‘আনন্দ’কে পৃথক করতে পারে না।”
“যতক্ষণ মানুষের কাছে ধনসম্পদ, দামি গাড়ি, বাড়ি এবং পরিবার পরিজন থাকে, ততক্ষণই সে সুখী। কিন্তু, এর একটিওতার কাছ থেকে সরে গেলে তার সুখ নষ্ট হয়ে যায়। এই জাগতিক সুখই যদি সত্যিকারের সুখ হয় তবে কীভাবে তাএতসহজে ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে পারে? এই যে ছোট্ট মেয়েটি এখানে বসে আপনমনে খেলছে — আমি কী বলছি তাতে ওরবিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই — এসব কথায় ও কোনো সুখই পাচ্ছে না। ও শুধু আপনমনে খেলে চলেছে। ওই মেয়েই যখন ২৪-২৫বছরের হবে তখন অন্য কিছুতে সুখ খুঁজে পাবে। আবার ও যখন আমার মতন ৭০-৮০ বছরের বৃদ্ধা হবে তখন আবারসম্পূর্ণ অন্য কোনো বিষয়ে সুখ লাভ করবে। সুতুরাং, মানুষ যে সুখের পিছনে ছুটে বেড়াচ্ছে তা নিতান্তই ইন্দ্রিয়লব্ধ। সেটাপ্রকৃত ‘আনন্দ’ নয়।”
“আনন্দ অক্ষয়। তার ‘ক্ষয়’ হয়না। কবীরের কথা অনুযায়ী, ” ভগবানের নামজপের মাদকতা দিনে দিনে বৃদ্ধি পায় ।” যেমন্ত্র আমি আপনাকে দেব, তার জপ আপনাকে ‘আনন্দ’ দেবে। উপরন্তু, এই ‘আনন্দ’ সমস্তরকম মানসিক চাপ থেকেআপনাকে সম্পূর্ণ মুক্ত দেবে। এই আনন্দ আপনার সঙ্গে অহর্নিশ থাকে এবং কোনোরকম ওষুধ ছাড়াই মানসিক চাপ এবংতজ্জনিত রোগব্যাধি থেকে আপনাকে মুক্তি দেয়। জড় বিজ্ঞানের উপাসক চিকিৎসকদের কাছে এটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার বলেমনে হয়।”
“আমি পাশ্চাত্যে এই পরামর্শ দিয়েছি যে, কেবলমাত্র জড়ের ওপর মনোযোগকে কেন্দ্রীভূত করলে চলবে না জড়ের সঙ্গেসূক্ষ্ম ইন্দ্রিয়াতীতকেও–আত্মাকেও যোগ করতে হবে। জড় এবং ইন্দ্রিয়াতীতে মিলেই সমস্ত রোগব্যাধির বিনাশ ঘটাবে।”(যেকোনো প্রশ্ন থাকলে 9468623528 নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করুন বা gssyworld@gmail.com এ ই-মেইল করুন)
শিক্ষার্থীদের জন্য গুরু সিয়াগ যোগ (G.S.Y.) – GSY for Students
পরিণত বয়সে পৌঁছে বেশিরভাগ মানুষই তাঁদের শৈশব বা কৈশোরের স্মৃতি রোমন্থন করেন। ফেলে আসা শৈশবকেসকলেরই মধুর এবং নির্ভার বলে মনে হয়। প্রাপ্তবয়স্করা অনেকসময়েই শিশুদেরকে ছেলেবেলা চুটিয়ে উপভোগ করে নেবারউপদেশ দেন এইজন্য যে,এটাই জীবনের একমাত্র সময় যা ভবিষ্যতের চিন্তার ভারে ভারাক্রান্ত নয়। যদিও, এটি সম্পূর্ণ সত্যনয়।শিশুরা পরিণত মানুষের মতন সকল ক্রিয়াকর্মের কার্যকারণ বিচার করতে পারে না অথবা ভবিষ্যতে তাদের জন্য কীঅপেক্ষা করছে তা ভাবতে পারেনা ঠিকই, কিন্তু, তাদেরও নিজস্ব অনেক সমস্যা আছে — যেমন পড়াশোনার চাপ, সমবয়সীবন্ধুদের চাপ, পরিণতবয়স্ক ব্যক্তিদের তাদের প্রতি আচরণ, সামাজিক পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার মতোইআরও নানাবিধ চাপ।
এই চাপ শিশুদের আচরণে, খাদ্যাভ্যাসে, দৈহিক বিকাশে, স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে, স্কুলে দক্ষতার বহিপ্রকাশে এবং অন্যান্য শিশুদেরসঙ্গে তাদের ব্যবহারে প্রতিকূল প্রভাব ফেলে। গুরু সিয়াগ যোগ (G.S.Y.) শিশুদের ওপর এইসমস্ত সমস্যার নেতিবাচকপ্রভাব নিরাময় করে এবং তাদের সুপ্ত গুণাবলী ও প্রতিভার বিকাশ ঘটায়।
গুরু সিয়াগ যোগ (G.S.Y.) ধ্যান ও মন্ত্রজপ নির্ভর এক অতি সহজ অনুশীলন যাকে সহজেই শিশুর স্কুল এবং গৃহেরদৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যেতে পারে । এই অনুশীলনে গুরুপ্রদত্ত মন্ত্রের নীরব জপ এবং দুবেলা ১৫ মিনিটকরে ধ্যান করতে হয়। নিয়মিত অনুশীলনের ফলে গুরু সিয়াগ যোগ (G.S.Y.) নিম্নলিখিত উপায়ে শিশুদের উপকারেআসে-
চাপমুক্তি (Reduces Stress) :- একটি বহুপ্রচলিত অথচ ভ্রান্ত ধারণা হলো– ধ্যান করবার অর্থ চিন্তাশূন্য হয়ে যাওয়া।যদিও প্রকৃতপক্ষে ধ্যান মনকে শান্ত করতে সহায়তা করে। একটি উদাহরণ সহযোগে বিষয়টি বোঝা যেতে পারে — এক গ্লাসপরিষ্কার , স্বচ্ছ জলে বেশ খানিকটা কাদা গুলে দেওয়া হলো। নোংরা ময়লাগুলি বেশ কিছুক্ষণ গ্লাসে ঘুরপাক খাবার পরধীরে ধীরে তলায় থিতিয়ে পড়বে। অল্প সময় পরেই আবার পরিষ্কার জল দেখা যাবে। প্রায় একইরকমভাবে যখন কেউধ্যান করে তখন কিছুক্ষণের জন্য চিন্তাগুলি মনের চারদিকে ঘুরপাক খেতে থাকে। অনুশীলনকারীকে এ-সময় মন্ত্রজপেমনোনিবেশ করতে হয়। অল্পক্ষণের মধ্যেই চিন্তাগুলি থিতিয়ে গেলে মন শান্ত হয়ে যায়। মন যখন শান্ত হয়ে যায় , তখনসারা শরীরে সেই শান্তভাবের প্রভাব পড়ে এবং তৎক্ষণাৎ চাপ কমতে থাকে।
পড়াশোনার দক্ষতা বৃদ্ধি করে (Improved Academic Performance) :- মন চাপমুক্ত হলে স্বাভাবিকভাবেইসজাগতা বাড়ে এবং মনোসংযোগ গভীর হয়। গুরু সিয়াগ যোগের (G.S.Y.) অনুশীলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের কঠিনবিষয়কেও অতি সহজেই আয়ত্ত করতে পারার দক্ষতা বৃদ্ধি পায় । মনোসংযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পাঠ তৈরি এবং তা মনেরাখাও অনেক দ্রুত ও সহজ হয়ে যায়।
উদবেগ ও অবসাদ নিরসন করে (Reduced Anxiety and Depression) :- মাঝেমাঝেই আমরা পড়াশোনায় ব্যর্থহওয়ার ভয়ে ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যা করতে দেখি। অথচ, স্কুল- কলেজে যদি ধ্যানের জন্য ১৫ মিনিট সময়ের অবকাশথাকতো তাহলেই এই করুণ পরিণতিকে এড়ানো সম্ভব হতো। যেসব ছাত্র-ছাত্রী গুরু সিয়াগ যোগ (G.S.Y.) অনুশীলন করেতারা পরীক্ষার চাপ এবং কৃতকার্যতার উদবেগকে অনেক ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারে। পরীক্ষার আগে কিংবাপড়তে বসার আগে ধ্যান করতে পারলে দেহ-মন শান্ত হয়ে আসে এবং বিষয়ে মনোনিবেশ করা সহজ হয়। গুরু সিয়াগযোগ ( G.S.Y.) তাদের মানসিক ভারসাম্যকে সুদৃঢ় করে — ফলে, ব্যর্থতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অনুশীলনকারী ছাত্রশান্তভাবে পরিস্থিতির বিচারে সক্ষম হয় এবং ভেঙে পড়া বা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার বদলে তারা নিজেদেরকে আরও ভালোফলাফলের জন্য যোগ্য করে তোলে।
উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির বিকাশ (Out-of-the-box Ideas):- গুরু সিয়াগ যোগ (G.S.Y.) সৃজনশীল চিন্তাশক্তিকে উদ্দীপ্তকরে। ফলে, ছাত্র-ছাত্রীদের মনে মহৎ ধ্যান-ধারণার জন্ম হয়। বিশেষত, যে-সকল ছাত্র-ছাত্রী গবেষণা, উদ্ভাবন বাডিজাইনিং-এর মতো সৃজনশীল কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে চায়, তাদের জন্য এটি ভীষণই জরুরি।
সুখী মানসিক অবস্থা (Happier State of Mind) :- গুরু সিয়াগ যোগ (G.S.Y.) ছাত্রদের সামগ্রিক ব্যক্তিত্বের ওপরইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা অনেক নিশ্চিন্ত ও সুখী বোধ করে। অনেক ছাত্র-ছাত্রীর জীবনেই গুরু সিয়াগ যোগ(G.S.Y.) আশাবাদের সঞ্চার ও বৃদ্ধি ঘটিয়েছে । জীবনে নানান চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কিংবা নতুন কোনো বিদ্যাশৈলীআয়ত্ত করতে এই অনুশীলন বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছে।বন্ধুদের আচরণে শিশু ক্রমশ যদি আগের তুলনায় কম বিপন্নতাঅনুভব করে কিংবা তার নিজের উগ্র ব্যবহার যদি কমে আসে তবে তাও তার মানসিক সুখকেই প্রতিফলিত করে। ক্রমেতারা তাদের চারপাশের মানুষজনের প্রতি সমানুভূতি পোষণ করতে শেখে ফলে তাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কেরউন্নতি ঘটতে থাকে।
চিন্তনশক্তির বিকাশ ঘটায় (Promotes Evolved Thinking) :- অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হবার সঙ্গে সঙ্গে তারাঅপরের প্রয়োজন অনুধাবন এবং তার পূরণের ব্যাপারে অনেক বেশি যত্নবান হয়। বহু সময়েই অসহায়, ভাগ্যবিড়ম্বিতদেরতারা নিজেদের অধিকার ছেড়ে দিয়ে কিংবা নিজেদের পছন্দের জিনিস দিয়েও সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। নিজের প্রতিকিংবা বন্ধুর প্রতি কোনোরকম অন্যায় অথবা পীড়ন দেখামাত্রই তারা এগিয়ে এসে তার পাশে দাঁড়ায় ও প্রতিবিধান করে।
নেশা থেকে মুক্তি (Freedom from Addiction)
প্রত্যেক ব্যক্তিরই তিনটি সহজাত প্রবণতা থাকে : সাত্ত্বিক (পবিত্র, ভারহীন), রাজসিক (উৎসাহপ্রবণ) এবং তামসিক(নিস্তেজ, জড়)। এই তিন প্রবণতা কেবলমাত্র ব্যক্তির সামগ্রিক মানসিক গঠন, জীবনদৃষ্টি এবং ক্রিয়াকর্মকেই আকার দেয়না, উপরন্তু, তাঁর খাদ্যাভ্যাস কিংবা বিশেষ বিশেষ খাদ্য-পানীয় গ্রহণের প্রবণতাকেও নিয়ন্ত্রণ করে।
গুরু সিয়াগ যোগের (G.S.Y.) নিয়মিত অনুশীলন রাজসিক ও তামসিক প্রবণতার ওপরে সাত্ত্বিকতার প্রাধান্যকে সহজতরকরে তোলে। ফলে, ঐ শেষোক্ত দুই বৃত্তির বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটে। সাত্ত্বিক গুণের প্রাধান্য ব্যক্তির অন্তর্নিহিত প্রবণতাররূপান্তর ঘটিয়ে তাঁকে চিন্তায় ও কর্মে আরও বেশি ইতিবাচক, সচেতন, বুদ্ধিমান এবং পবিত্র করে তোলে। এর ফলে, তাঁরখাদ্যাভাস কিংবা পানীয় গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসে। সামগ্রিকভাবে এই পরিবর্তনের ফলে ব্যক্তির শারীরিক ওমানসিক স্বাস্থ্য এবং আধ্যাত্মিক অগ্রগতির পথের অন্তরায়গুলি (ব্যক্তির নিজস্ব কোনো সচেতন প্রচেষ্টা ছাড়াই) নিজেথেকেই তাকে ছেড়ে চলে যায় । অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তির যদি মাদকদ্রব্য, মদ অথবা ধূমপানে আসক্তি থেকে থাকে, তবে তাস্বতস্ফূর্ত ভাবেই তাকে ছেড়ে চলে যাবে। তার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক — এমন কোনো খাদ্যে যদি অনুশীলনকারীরআসক্তি থাকে, তবে, মন্ত্রজপ ও ধ্যানের ফলে তার অন্তর্নিহিত গুণাবলী ও প্রবণতার পরিবর্তন ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমে তাঁররুচিরও পরিবর্তন ঘটবে — স্বাস্থ্যহানিকর খাবারের প্রতি অপছন্দ দেখা দেবে এবং সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগীআহার্যের প্রতি আগ্রহ জন্মাবে।
নীচে গুরু সিয়াগ আসক্তি দূরীভূত হওয়ার যৌগিক প্রক্রিয়াকে স্বকীয়ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:–
“মন্ত্রজপের ফলে প্রাপ্ত দিব্য আনন্দ মানসিক চাপ ও মানসিক ব্যাধি থেকে মুক্তি দেয়।”
“মাদকাসক্তি থেকেও মুক্তি মেলে। কাউকে কিছুই (মাদকদ্রব্য) ছাড়তে হয় না, বরং ঐ ক্ষতিকর দ্রব্যই ব্যক্তিকে ছড়ে চলেযায়। সুতরাং, কীভাবে একজন নেশামুক্ত হবে? — হবে, কেননা তাঁর আন্তরিক বৃত্তির রূপান্তর ঘটে যায়। ‘মায়া’ নামকবিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী শক্তির অন্তর্গত তিন গুণের পারস্পরিক প্রভাবেইএই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হয়েছে। এই গুণগুলি হলো :- রজস(তীব্র আকাঙ্ক্ষাপ্রবণ ও শক্তিময়), তামস (অন্ধতা, নিস্তেজ, জড়) এবং সত্ত্ব (পবিত্র, আলোকদ্দীপ্ত এবং জ্ঞানসম্পন্ন)।”
“শরীরে যে প্রবণতা প্রবল আপনাকে তার চাহিদা অনুযায়ীই খ্যাদ্যের যোগান দিতে হবে।”
” তামসিক গুণ প্রবল হলে সেটি মাংস , মদ চাইবেই ; কেননা , এইজাতীয় খাদ্যের ওপরেই তামসিকতা বেঁচে থাকে। এইচাহিদা পূরণ করতে না পারলে আপনাকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। দীর্ঘ ২০ বছর আফিম সেবনের পর কেউযদি হঠাৎ তা নেওয়া বন্ধ করে দেয় , তবে ৭ দিনের মধ্যে তার জীবনহানি ঘটবে। কিন্তু , তিনি যদি সিদ্ধযোগের অনুশীলনকরে থাকেন তাহলে তিনি নেশামুক্ত হয়ে যাবেন ,তাঁর মৃত্যু ঘটে না , কারণ , ইতিমধ্যেই তাঁর বৃত্তির আমূল পরিবর্তন ঘটেগেছে। সিদ্ধযোগের ক্ষেত্রে এই তামসিক গুণের ওপরেই সর্বপ্রথম প্রভাব পড়ে। তাদের চাহিদার পরিসমাপ্তি ঘটে।”
“এটা একেবারেই চাহিদা আর যোগানের ব্যাপার। একবার স্বামী বিবেকানন্দ আমেরিকায় একটি বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। জনৈকশ্রোতা তাঁকে বললেন, “স্বামীজি আপনি শুধুশুধুই আপনার সময় নষ্ট করছেন। আমরা কখনওই যোগের উপযুক্ত হয়ে উঠবনা। হিন্দু দর্শনের প্রাথমিক বিষয়ই হলো নিরামিষাশী হওয়া। মাংস, মদ ছাড়া আমাদের চলেনা। আমরা কীভাবে যোগকরব?” উত্তরে স্বামীজি বললেন, “আপনাকে কোনো দ্রব্যই ছাড়তে হবে না। দ্রব্যই আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে।” তার মানেআপনার কোনো বিশেষ কিছু ত্যাগ করবার প্রয়োজন নেই । ঐ জিনিস নিজে থেকেই আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে।”
“আমি আপনাদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। আপনাদের মধ্যে যারা মাদকাসক্ত, তাঁরা আজ থেকে ড্রাগ নেবার চেষ্টা করুন ।আপনি কিছুতেই পারবেন না, কেননা, আসক্তি আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। আপনি চাইলেও আর ড্রাগ নিতে পারবেননা।”
“বাড়মের এর হাজার হাজার মানুষের আফিমের নেশা ছিল; মাদকাসক্তের সংখ্যা এখানেই সর্বাধিক। পাকিস্তান থেকেসীমানা পার করে আফিম এপারে আসে। সেজন্যই বাড়মেরের লোকে আফিম খায়। আমি তাদের বলি, “আফিম ছেড়োনা, কিন্তু, সিদ্ধযোগ করে যাও।” এরপরেও হাজার মানুষ নেশা থেকে মুক্ত হয়েছেন। তাঁরা বলেন, আফিমে এখন তাঁরা দুর্গন্ধপান। তাঁরা এটা খেতে পারেন না। এই পরিবর্তনের জন্যই আজকে বাড়মেরের এই লোকেরা এসেছেন।”
“আমি কখনওই বলি না, “ড্রাগ নেওয়া বন্ধ করো।” আমি বলি, “ছেড়োনা।” অনেক গুরুই উপদেশ দেন” এটা ঠিক, ওটাঠিক নয় “এবং” এটা কোরো না, ওটা করো।” কিন্তু, এসব মানবে কে? লোকে এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করেদেয়। যে কারণে আমি কখনওই কোনো উপদেশ দিই না।”
“আপনাদের এটা জানা দরকার যে, আপনাদের কিছুই ছাড়তে হবে না। অনেকেই তাঁদের আত্মীয়স্বজনকে — যাঁরা নেশাগ্রস্ত,তাঁদের — এই প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করেন। তাঁরা বলেন এতে করে এঁরা নেশামুক্ত হয়ে যাবে।মাদকাসক্তরা ভয় পান — পাছে তাঁদের নেশার দ্রব্য ছাড়তে হয়। আমি তাঁদের আশ্বস্ত করি যে, আপনাদের কিচ্ছু ছাড়তেহবে না। এতে তাঁরা খুশি হয়, কেননা, ঘণ্টাখানেক আমার বক্তব্য শুনলেও তাঁদের আর কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।”
“অবশ্য তাঁরা নেশা ত্যাগ করতে ইচ্ছুক না হলেও, কয়েকদিনের মধ্যেই নেশা তাঁদের ছেড়ে চলে যায়। আপনিও নেশামুক্তহতে পারেন। আপনি নিজেই দেখবেন — ধ্যানের মাধ্যমে কীভাবে এটা ঘটবে। সুতরাং, এভাবেই বৃত্তি পরিবর্তিত হয়ে যায়।একটি বিশেষ বৃত্তি থেকে জন্ম নেওয়া আকাঙ্ক্ষা এভাবেই ছেড়ে চলে যায়। চাহিদা না থাকলে যোগানের আর কোনো প্রশ্নইনেই। শুধুমাত্র চাহিদা থাকলেই যোগান দিতে হবে। বৃত্তি চাহিদা বন্ধ করলেই যোগানও বন্ধ হয়ে যাবে। এর মানে হলো নেশাআর আপনাকে বিরক্ত করবে না। যে প্রবল আকাঙ্ক্ষা আপনাকে ঐ মাদকদ্রব্য নিতে বাধ্য করছিল সেই আকাঙ্ক্ষাইসম্পূর্ণ চলে গেছে।”
ক্রোধ থেকে মুক্তি (Freedom from Anger)
পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করার আকাঙ্ক্ষা এবং তার ব্যর্থতা থেকেই যাবতীয় ক্রোধের জন্ম। আমরা এই নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছাকেএত তীব্রভাবে আঁকড়ে ধরে থাকি যে যখন তা বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন ঐ নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছাশক্তিই আমাদের ভিতর ক্রোধেরআগুন হয়ে জ্বলে ওঠে এবং তা আমাদেরকেই সবচেয়ে বেশি দগ্ধ করে। গুরু সিয়াগ বলেছেন – “মৃত্যুর পর দেহের সৎকারকরা হয়, আগুনে তা ভস্মে পরিণত হয়। কিন্তু, ক্রোধের আগুন জীবিত অবস্থাতেই আমাদের গ্রাস করে নেয়।” ক্রোধেরসময় আমাদের বিচারবুদ্ধি সব লোপ পায় এবং তখন আমরা দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে এমন কিছু করে বা বলে বসি যাআর শুধরে নেওয়া যায় না। কখনও কখনও তাতে অপূরণীয় ক্ষতিও ঘটে যেতে পারে। চরম ক্রোধের ক্ষেত্রে ঘটনা ঘটেযাবার পরেও সারাজীবনেও মানুষ তার অভিঘাত ভুলতে পারেনা।
চিকিৎসক এবং থেরাপিস্টরা এই ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের নানাবিধ উপায়ের কথা বলেছেন। তারা কেউ কেউ ক্রোধের নিয়ন্ত্রিতপ্রকাশের পক্ষপাতী, কেউ ক্রোধকে অবদমন করে সে শক্তিকে গঠনমূলক কাজে ব্যবহারের পরামর্শ দেন, কেউ আবারশ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশলে নিজেকে শান্ত করার কথা বলেন। চরমতম ক্ষেত্রে আশু ফললাভের জন্য ডাক্তারেরা ঘুমের ওষুধখাওয়ার পরামর্শও দিয়ে থাকেন। কিন্তু, এই উপায়গুলি একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্তই কার্যকরী হয়। এগুলি ঐ মুহূর্তের জন্যক্রোধকে প্রশমিত করে হয়ত কিন্তু, ক্রোধের হাত থেকে তা সম্পূর্ণভাবে মুক্তি দিতে পারে না। অর্থাৎ, এ সবই ব্যক্তিকেক্রোধের জন্য দায়িত্ব নিতে বলে, তাকে নিজের ভিতরে অবদমনের কথা বলে, কিন্তু, চিরতরে ক্রোধের বিনাশ ঘটাতে পারেনা।
গুরু সিয়াগ বলেন – ” রাগের প্রকাশ বস্তুত অন্তহীন বৃত্তাকার এক গতিভঙ্গি। আপনি আপনার ক্রোধের বহিঃপ্রকাশেঅপরকে ভস্মীভূত করতে পারেন; সেও কিন্তু নীরবে আপনার রাগকে হজম করবে না। আপনার আক্রোশের সমানুপাতেইসে তার প্রতিহিংসা প্রকাশ করবে। এর কোথাও কোনো শেষ নেই । এ যেন নিজে নিষ্কলুষ থেকে অন্যকে কলুষিত করবারইচ্ছা। অথচ, আপনাকে কলুষিত হতেই হবে। রাগ ঘৃণায় পরিণত হয় এবং এই চক্রব্যূহ ভেদ করতে না পারার কারণেমানুষকে আজীবন এই অভিশাপের জের টেনে চলতে হয়।” তাহলে কেমন করে এই চক্র ভাঙা যায়? গুরু সিয়াগ বলেন যে,ধ্যানের সীমাহীন সমুদ্রের অতলে অবগাহন করলেই একমাত্র রাগ লয়প্রাপ্ত হতে পারে। নিজ ক্রোধের দায়িত্ব স্বীকার করারচাইতে অনুশীলনকারীকে বরং নিরপেক্ষভাবে শুধু এটুকুই বুঝে নিতে হবে যে — আদতে ক্রোধ যেহেতু একটি আবেগ, সুতরাং, বাইরের কোনো ঘটনা বা ব্যক্তির মধ্যে তার কারণ থাকতে পারে না।
লক্ষ করলে দেখবেন, প্রকৃতপক্ষে আপনি কোনো ব্যক্তিবিশেষের ওপর ক্রোধান্বিত হন না। আপনি শুধুমাত্র রেগে যান।অর্থাৎ, ক্রোধ বা রাগ একটি বহিঃশক্তি — আপনি তাকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন। আপনার ভিতরে প্রবেশেরপরেই কেবলমাত্র তা একটি বিশেষ রূপ লাভ করে —তখনই আপনি কারোর ওপর, কোনো পরিস্থিতির ওপর কিংবা কোনোকাজের ওপর রেগে যান। ধ্যানে এই ক্রোধ গুণহীন বা বিশেষত্বহীন হয়ে যায়। কখনও রাগান্বিত হলে অনুশীলনকারী তাসংযত করবেন এবং ধ্যানে তাকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেবেন। যে ক্রোধের শক্তি আপনার দিকে ছুটে এসেছিল, আপনিআবার তাকে বিশ্বপ্রকৃতিতে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। যখন একটি নদী সমুদ্রে পতিত হয় তখন সে তার নিজস্বতা হারিয়েফেলে এবং সমুদ্রের সঙ্গে এক হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে ক্রোধকে যখন ধ্যানের সময় প্রকৃতিতে বিসর্জন দেওয়া হয় তখনতা বিশ্বজগতেই লীন হয়ে যায়। সেটি তখন নিজেকে হারিয়ে নিজে ঐ বিশ্বপ্রকৃতিই হয়ে ওঠে। এটা অবশ্যই একবারে সম্ভবহয়না — যখনই অনুশীলনকারীর অন্তরে ক্রোধ জেগে ওঠে তখনই বারেবারে সচেতনভাবে তাকে এই কৌশল প্রয়োগ করতেহয়। ক্রমে ক্রমে সমস্ত ক্রোধ দ্রবীভূত হয়ে যায় বা মিলিয়ে যায়। রাগ হবার মুহূর্তে যদি আপনার পক্ষে ধ্যান করা সম্ভব নাহয়, তবে আপনি সেই মুহূর্তে মন্ত্রজপ শুরু করে দিন। গুরু সিয়াগ বলেন — “ক্রোধের প্রাথমিক তরঙ্গের অনুভূতি লাভকরামাত্র আপনি মন্ত্রজপ চালু করুন। মন্ত্রের তরঙ্গ ক্রোধের নিরর্থকতার বিষয়ে সজাগ করিয়ে তার শক্তিকে আপনারওপর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আপনাকে অভিভূত করার বদলে ক্রোধের তরঙ্গ তখন তার অভিমুখ পাল্টে ফেলে এবংআপনাকে ছেড়ে চলে যায়।“ (যেকোনো প্রশ্ন থাকলে 9468623528 নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করুন বা gssyworld@gmail.com এ ই-মেইল করুন)

